মন্ত্র কবচ – কালিকা পুরাণ

ষট্‌পঞ্চাশ অধ্যায় – মন্ত্র কবচ: ভগবান বলিলেন,–হে বেতাল-ভৈরব! বৈষ্ণবী তন্ত্রসংজ্ঞক অঙ্গিমন্ত্রের এবং বিশেষতঃ বৈষ্ণবী দেবীর কবচ শ্রবণ কর। ১

তাহাতে মন্ত্রের আদি অক্ষর বাসুদেবস্বরূপধারী (অ), দ্বিতীয় বর্ণ স্বয়ং ব্ৰহ্মা (ক) এবং তৃতীয় স্বয়ং চন্দ্রশেখর মহাদেব (চ)।

চতুর্থ গণেশ (ট), পঞ্চম দিবাকর সূৰ্য্য (ত), মহামায়া জগন্ময়ী শক্তি স্বয়ং পকারস্বরূপ, যকার স্বয়ং মহালক্ষ্মীস্বরূপ এবং ষবর্ণ স্বয়ং সরস্বতী। ৩

শৈলপুত্রী প্রথম বর্ণের যোগিনী, দ্বিতীয় বর্ণের যোগিনী চণ্ডিকা, তৃতীয় মন্ত্রের যোগিনী চণ্ডঘন্টা এবং চতুর্থের কুষ্মাণ্ডী। ৪

তকারের যোগিনী স্কন্দমাতা এবং পকারের যোগিনী স্বয়ং কাত্যায়নী। মহাদেবী নামে প্রসিদ্ধা কালরাত্রি সপ্তম বর্ণের যোগিনী। ৫

প্রথমে বর্ণ-কবচ, তাহার পর যোগিনী-কবচ। তদনন্তর দেবৌঘ-কবচ এবং তাহার পর দেবী-দিক্‌-কবচ। ৬

মন্ত্র-কবচ - কালিকা পুরাণ

তাহার পর পার্শ্ব-কবচ। তদনন্তর দ্বিতীয়াষ্টাক্ষর-কবচ। তাহার পর ষড়ক্ষর-কবচ। তদনন্তর অভেদ্য-কবচ। ৭

মন্ত্র কবচ – কালিকা পুরাণ

যে মনুষ্য, এই সকল শ্রেষ্ঠ কবচ পরিজ্ঞাত হয়, সে আমার সহিত অভিন্ন শক্তিমান, মহাদেব এবং দেবীর স্বরূপতা প্রাপ্ত হয়। ৮

এই বৈষ্ণবীতন্ত্র কবচের ঋষি নারদ, ছন্দঃ অনুষ্টুপ, দেবতা কাতায়নী এবং সকল প্রকার কাম ও অর্থ সাধন বিষয়ে ইহার নিয়োগ হয়। ৯

অ পূর্বদিকে আমার রক্ষাবিধান করুন, ক আমাকে সর্বদা অগ্নিকোণে রক্ষা করুন, চ দক্ষিণদিকে, ট নৈর্ঋত কোণে। ১০

ত পশ্চিমদিকে, শক্তি (প) বায়ুকোণে, য উত্তরদিকে এবং (য) ঈশান কোণে আমাকে রক্ষা করুন। ১১।

য আমার মস্তকে রক্ষা বিধান করুন, দক্ষিণ বাহুতে ক, বাম বাহুতে চ, এবং ট সর্বদা হৃদয়ে রক্ষা করুন। ১২।

ত আমার কণ্ঠদেশে, উভয় কটিদেশে শক্তি, য দক্ষিণ পাদে এবং ষ বাম পাদে রক্ষা করুন। ১৩

শৈলপুত্রী পূর্বদিকে, চণ্ডিকা অগ্নিকোণে, যমভয়-নিবারিণী চণ্ডঘণ্টা দক্ষিণ দিকে রক্ষা করুন। ১৪

জগৎ-প্রসবিনী কুষ্মাণ্ডী নৈর্ঋতে রক্ষা করুন, স্কন্দমাতা সর্বদা আমার পশ্চিমদিকে রক্ষা করুন। ১৫

ত্রিলোকের ঈশ্বরী কাত্যায়নী বায়ুকোণে এবং কালরাত্রি সর্বদা উত্তরদিকে রক্ষা করুন। ১৬

ঈশানকোণে পাবনী মহাগৌরী সতত রক্ষা করুন এবং সনাতন বাসুদেব নেত্ৰদ্বয়ে রক্ষা করুন। ১৭

পদ্মযোনি এবং অযোনিজ ব্রহ্মা আমার বদনে রক্ষা করুন এবং ভগবান চন্দ্রশেখর আমার নাসাভাগ রক্ষা করুন। ১৮

মহাদেবের পুত্র গজানন আমার স্তনযুগে রক্ষা করুন এবং দিবাকর সূর্য বাম ও দক্ষিণ হতে সৰ্ব্বদা রক্ষা করুন। ১৯

পরমেশ্বরী মহামায়া স্বয়ং আমার নাভিদেশে রক্ষা করুন, মহালক্ষ্মী গুহ্য দেশে রক্ষা করুন এবং সরস্বতী জানুদ্বয়ে রক্ষা করুন। ২০

মঙ্গলরূপা মহামায়া নিত্য পূৰ্বভাগে রক্ষা করুন এবং সুবাসিনী অগ্নিজালা নিত্য অগ্নিকোণে রক্ষা করুন। ২১

রুদ্রাণী আমাকে দক্ষিণদিকে রক্ষা করুন এবং নৈর্ঋতকোণে চণ্ডনায়িকা রক্ষা করুন। আমাকে পশ্চিমদিকে মহেশ্বরী উগ্রচণ্ডা সর্বদা রক্ষা করুন। ২২

বায়ুকোণে প্রচণ্ড এবং ঘোররূপিণী উত্তরদিকে রক্ষা করুন। সনাতনী ঈশ্বরী সৰ্ব্বদা ঈশানকোণে রক্ষা করুন। ঊর্ধ্বদিকে মহামায়া এবং অধোদিকে পরমেশ্বরী রক্ষা করুন। ২৩

আমার সম্মুখে উগ্রা এবং পশ্চাদ্ভাগে বৈষ্ণবী সৰ্ব্বদা রক্ষা করুন এবং শোভন ব্রহ্মাণী নিত্য দক্ষিণ পার্শ্বে রক্ষা করুন। ২৪

বৃষভবাহিনী মহেশ্বরী আমার বাম পার্শ্বে নিত্য রক্ষা করুন। কৌমারী পর্বতে এবং বারাহী জলে রক্ষা করুন। ২৫

নারসিংহী অরণ্য মধ্যে দ্রংষ্ট্রিজীবগণের ভয় হইতে রক্ষা করুন এবং ঐন্দ্রী আকাশে সমুদয় জল ও স্থলভাগে আমাকে রক্ষা করুন। ২৬

সেতু সকল অঙ্গুলী রক্ষা করুন এবং দেবাদি কর্ণদ্বয় সর্বদা রক্ষা করুন। দেবান্ত চিবুকে এবং শক্তিপঞ্চম পার্শ্বদ্বয়ে রক্ষা করুন। ২৭

ত এবং য আমার ঊরুদ্বয়ে এবং জঙ্ঘাদ্বয়ে রক্ষা করুন। ২৮

ষ সৰ্বেন্দ্রিয় এবং রোমকূপের রক্ষা বিধান করুন। য সদা সর্বদা আমার ত্বকে ওষ্ঠে এবং নখ, দন্ত ও কর আদিতে রক্ষা করুন। ২৯

দেবাদি আমার বস্তিদেশে রক্ষা করুন এবং দেবান্ত আমার কক্ষদ্বয়ে রক্ষা করুন। ষ ইত্যাদি সর্বত্র অবয়বে রক্ষা করুন এবং সেতু দেহের বর্হিভাগে রক্ষা করুন। ৩০-৩১

এই বৈষ্ণবী তন্ত্র মন্ত্র–আমার আজ্ঞা চক্রে, সুষূম্নায়, ষটচক্রে, হৃদয়ের সন্ধিস্থলে, আদি ষোড়শচক্রে এবং ললাটকোষে নিত্য বিদ্যমান হইয়া রক্ষা করুন। ৩২

সমুদয় গর্ভ, নাড়ী, পার্শ্ব কুক্ষি, শিরানিচয়, রুধির, স্নায়ু, মজ্জা, মস্তিষ্ক এবং সমুদয় পর্বভাগে দ্বিতীয়াষ্টাক্ষর মন্ত্রময় কবচ সর্বতোভাবে রক্ষা করুন। ৩৩

রেতঃ, বায়ু, নাভির এবং সকল প্রকার পৃষ্ঠসন্ধিতে তৃতীয় ষড়ক্ষর মন্ত্র সৰ্ব্বদা রক্ষা করুন। ৩৪

মহামায়া আমার নাসারন্ধ্রে রক্ষা করুন, বৈষ্ণবী কণ্ঠরন্ধ্রে রক্ষা করুন এবং দুর্গতিহারিণী দুর্গা আমার সকল সন্ধিস্থলে রক্ষা করুন। ৩৫

শ্রোত্রদ্বয়ে হ্রঁ ফট, এই প্রকারে কালিকা নিত্য রক্ষা করুন এবং নেত্র রক্ষা করিতে বীজত্ৰয় অবস্থান করুক। ৩৬

মন্ত্র-কবচ - কালিকা পুরাণ

ওঁ ঐঁ হ্রীঁ হ্রৌঁ এই বীজান্বিতা চণ্ডিকা নাসাভাগ রক্ষা করত অবস্থান করুন এবং ঐঁ হ্রীঁ হূঁ এই বীজান্বিতা তারা সর্বদা জিহ্বামূলে অবস্থান করুন। ৩৭

সেতু আমার হৃদয়ে অবস্থান করত উত্তম জ্ঞান রক্ষা করুন এবং ওঁ ক্ষৌঁ ফট্‌ এই বীজসম্বলিতা মহামায়া আমাকে সর্বদা সর্বপ্রকারে রক্ষা করুন। ৩৮

ওঁ যুং সঃ এই বীজান্বিতা রক্ষাকারিণী কৌশিকী সৰ্ব্বদা আমার প্রাণ রক্ষা করুন এবং ওঁ হূঁ সৌঁ এই বীজান্বিতা ভর্গদয়িতা দেহশূন্য স্থানে আমায় রক্ষা করুন। ৩৯

ওঁ নমঃ এই বীজান্বিতা শৈলপুত্রী আমার সকল প্রকার রোগের নাশ করুন। ৪০

ওঁ হ্রীঁ সঃ স্ফেঁ ক্ষঃ অস্ত্রায় ফট্‌ এই বীজযুতা শিবদূতী নিত্য সকল অস্ত্রে স্থিত হইয়া সিংহ-ব্যাঘ্ৰভয় হইতে এবং যুদ্ধকালে আমাকে রক্ষা করুন। ৪১

ওঁ হ্ৰীঁ হ্রীঁ সঃ এই বীজান্বিতা চণ্ডঘণ্টা আমার কর্ণছিদ্র রক্ষা করুন। ৪২।

ওঁ ক্ৰীঁ সঃ এই বীজান্বিতা কামেশ্বরী আমার কাম অর্থাৎ অভিলষিত বস্তু সকল রক্ষা করিবার নিমিত্ত বিদ্যমান হউন। ওঁ আঁ হূঁ ফট্‌ এই বীজশালিনী উগ্রচণ্ডা আমাদিগের রিপু এবং বিঘ্ন সকলকে বিমদ্দিত করুন। ৪৩

ওঁ হ্রীঁ হ্ৰীঁ শ্ৰীঁ এই বীজান্বিতা কালরাত্রি খড়্গ হইতে আমাকে সর্বদা রক্ষা করুন। ওঁ অং এই বীজান্বিতা জগদীশ্বর বৈষ্ণবী আমাকে শূল হইতে রক্ষা করুন এবং ওঁ কং এই বীজান্বিতা ব্রহ্মাণী আমাকে চক্র হইতে আর ওঁ চং এই বীজান্বিতা রুদ্রাণী আমাকে শক্তি হইতে রক্ষা করুন। ৪৪

ওঁ টং এই বীজযুক্তা কৌমারী আমাকে বজ্র হইতে রক্ষা করুন এবং ওঁ তং এই বীজযুক্তা বারাহী আমাকে কাণ্ড হইতে রক্ষা করুন। ৪৫

ওঁ পং এই বীজযুক্ত নারসিংহী আমাদিগকে ক্ৰব্যাদগণের হস্ত হইতে রক্ষা করন। ৪৬

ওঁ যং এই বীজান্বিতা চণ্ডিকা সমুদয় অস্ত্র শস্ত্র হইতে এবং নিখিল যন্ত্র এবং অনিষ্টকারী মন্ত্র হইতে আমাকে রক্ষা করুন, দেবীকে নমস্কার করি। ৪৭

যং নমঃ ঐন্ত্রী আমাকে বিশ্বাসঘাতকের হস্ত হইতে রক্ষা করুন। ৪৮

মহামায়া বৈষ্ণবী দেবীকে ওঁকার উচ্চারণপূর্বক নমস্কার করি। সেই পরমেশ্বরী আমাকে নিখিল ভূতগণ হইতে রক্ষা করুন। ৪৯

এই সৰ্বশ্রেষ্ঠ অষ্টাক্ষরাত্মক মন্ত্র আমার আধার শক্তিতে বায়ুমাৰ্গে, হৃদয়ে এবং চন্দ্ররশ্মি ও সূৰ্যযুক্ত কমলদলে, বস্তিস্থানে এবং বহ্নিতে অধিষ্ঠান করুন। যাহাকে–ব্ৰহ্মা মস্তকে, বিষ্ণু গলদেশে এবং মহেশ্বর কণ্ঠে ধারণ করেন, সেই ব্ৰহ্মাণ্ড-বীজ সকলের প্রধান মন্ত্র আমাকে রক্ষা করুন। ৫০

যে বৈষ্ণবী মন্ত্রে অষ্টোত্তর সহস্র সেতুবন্ধ মন্ত্র বিদ্যমান, সেই অ ক চ ট প্রভৃতি অষ্টাক্ষর মন্ত্র সম্বর, স্বরহীন, সানুস্বার, স-বিসর্গ ইত্যাদি বিধিরূপে আমাকে স্বর্গ, ভূতল ও জলে রক্ষা করুন। ধর্ম কাম এবং অর্থের সাধন এই কবচ আমি তোমাকে বলিলাম। ইহা অতি রহস্য এবং সকল প্রকার অর্থের সাধক। ৫১-৫৩

যে ব্যক্তি আমাকর্তৃক উক্ত এই কবচ একবার শ্রবণ করে, সে ইহলোকে সমুদয় কাম প্রাপ্ত হয় এবং পরকালে শিবস্বরূপতা লাভ করে। ৫৪

আমাকর্তৃক কথিত এই কবচ যে ব্যক্তি একবার পাঠ করে, সে সকল প্রকার যজ্ঞের ফল লাভ করে, সে বিষয়ে কোন সংশয় নাই। ৫৫

কেশরী যেমন অবলীলাক্রমে হস্তীকে পরাজয় করে, সেইরূপ সে সংগ্রামে শত্ৰুদিগকে পরাজয় করে। ৫৬

অগ্নি যেমন তৃণরাশিকে দগ্ধ করে, সেইরূপ সেও শত্ৰুদিগকে দগ্ধ করে। ৫৭

তাহার শরীরে অস্ত্র শস্ত্র কিছুই প্রবেশ করে না এবং তাহার কোন ব্যাধি বা দুঃখ উৎপন্ন হয় না। ৫৮

গুটীকাঞ্জন, পাতাল পাতন, পরমাঞ্জন প্রভৃতি যে সকল সিদ্ধি আছে, সে সকলই ইহা দ্বারা প্রসন্ন হয়। ৫৯

তাহার গতি বায়ুর ন্যায় হইবে এবং তাহা কেহ নিবারণ করিতে পারিবে এবং সে ব্যক্তি দীর্ঘায়ুঃ, কামভাগী এবং ধনবান হইয়া জন্মগ্রহণ করে। ৬০

অষ্টমীতে সংযত হইয়া নবমীতে ভগবতী দুর্গার বিধিবৎ পূজা করিয়া, যে ব্যক্তি নিজদেহে কবচের বিন্যাস করে, তাহার সম্যক্‌ ফল শ্রবণ কর। ৬১

তাহার ব্যাধি হয় না, পরমায়ু শতবর্ষ হয় এবং সে রূপবান, গুণবান, ধন এবং রত্নসমূহে পরিপূর্ণ, বিদ্যাবান হইয়া জন্মগ্রহণ করে। ৬২

অগ্নি তাহার শরীরকে দগ্ধ করে না এবং জলও ক্লিন্ন করে না, বায়ু তাহাকে শুষ্ক করিতে পারে না এবং মাংসাশিগণ তাহাকে মারিতে পারে না। ৬৩

শস্ত্র সকল তাহাকে ছেদ করিতে পারে না। সূৰ্য্য তাহাকে তাপিত করিতে পারেন না। তাহার কোনরূপ বিঘ্ন বা পীড়া হয় না। ৬৪

বেতাল; পিশাচ, রাক্ষস এবং গণনায়ক এই চারি প্রকার ভূতযোনি তাহার বশীভূত হয়। ৬৫

যে এই মহাদেব-নির্মিত কবচ নিত্য পাঠ করে, সে আমার সহিত অভিন্নতা প্রাপ্ত হয় এবং মহাদেব, মহামায়া, মাতৃকাবর্গ এবং ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ ও সকল তাহার হস্তের মুষ্টিমধ্যে অবস্থিতি করে। সে পণ্ডিত এবং অপরকে বর দানে সমর্থ হয়। ৬৬-৬৭

সর্বদা তাহার কবিত্ব এবং সত্যবাদিত্ব উৎপন্ন হয়। সে প্রত্যহ এক সহস্র শ্লোক বলিতে পারে ও শ্রুতিধর হয়। ৬৮

হে ভৈরব! যাহার গৃহে এই কবচ লিখিত হইয়; স্থিতি করে, তাহার কোনরূপ দুর্গতি বা দূষণ হয় না। ৬৯

গ্রহ সকল তাহার উপর তুষ্ট এবং রাজা সকল বশীভূত হয়। ৭০

আর যে রাজ্যে এই কবচ অবস্থান করে, সে রাজ্যের কোনরূপ ক্ষতি উৎপন্ন হয় না। ৭১

সেতু শক্তিবীজ পঞ্চমরূপ, তাহার কখন হীনতা হয় না। তিনি বলে বায়ুতুল্য এবং দ্বিতীয়াষ্টাক্ষরাত্মক। ৭২

বৈষ্ণবীর সেতু ষড়ক্ষরাত্মক এবং শুভদায়ক। ৭৩

এই তিনটি সৰ্ব্বদা যাহার জিহ্বাগ্রে বর্তমান হয়; দেবী মহামায়া, সর্বদা তাহার শরীরে অধিষ্ঠান করেন। ৭৪

সেতু মন্ত্রের প্রণবস্বরূপ, এই হেতু সেতু প্রণব বলিয়া অভিহিত হইয়াছে। ৭৫

ইহা পূর্বে অলঙ্কৃত হয় এবং পরে শেষ হয়। ৭৬

নমস্কার মহামন্ত্র–দেবগণ উহাকে দ্বিজাতিদিগের দেবতা বলিয়া নির্দেশ করেন এবং শূদ্রদিগের উহা সকল কর্মে মহামন্ত্র স্বরূপ। ৭৭

পূর্বকালে প্রজাপতি ব্রহ্মা,-অকার, উকার এবং মকার এই তিনটি অক্ষরকে বেদত্রয় হইতে নিষ্কাসিত করিয়া প্রণব নিৰ্মাণ করিয়াছেন। ৭৮

সেই ওঁ কার ব্রাহ্মণদিগের উদাত্ত এবং ক্ষত্রিয়দিগের অনুদাত্ত উচ্চারণ করা কর্তব্য। বৈশ্যেরা মনে মনে স্মরণ করিলে প্রশস্ত ফল লাভ করে। ৭৯

চতুর্দশ স্বরের মধ্যে শেষকালে যে ঔকার আছে, উহা অনুস্বার এবং চন্দ্র বিন্দু দ্বারা যুক্ত হইয়া শূদ্রদিগের সেতু হয়। ৮০।

জল যেমন আলরহিত হইলে নিম্নদিকে গমন করে, মন্ত্রও সেইরূপ সেতু রহিত হইলে ক্ষরিত হয়। ৮১

এই নিমিত্ত ব্রাহ্মণাদি বর্ণচতুষ্টয়, সকল মন্ত্রের উভয় পার্শ্বে সেতু স্থাপন পূর্বক জপ কৰ্ম্ম আরম্ভ করিবে। ৮২

শূদ্রেরা ইচ্ছানুসারে মন্ত্রের প্রথমে একবার মাত্র সেতু দিতে পারে অথবা আদি-অন্ত দুই দিকেই সেতু দিতে পারে। দ্বিজাতিমাত্রেই “দ্বিঃ-সেতু” বলিয়া প্রসিদ্ধ অর্থাৎ তাহাদের আদি-অন্ত দুই দিকেই সেতু দেওয়া বিধেয়। ৮৩

মন্ত্র-কবচ - কালিকা পুরাণ

ঔর্ব বলিলেন,–মহাদেব কর্তৃক কথিত সকল কবচই তোমার নিকট বলিলাম। এই কবচাষ্টক উত্তম একটি অভেদ কবচ-স্বরূপ। ৪

এই মন্ত্রসংযুক্ত ষড়ক্ষর কবচ মহামায়া মন্ত্রকল্প এবং তিনলোকে দুর্লভ। ৮৫

হে নৃপশার্দূল! নিত্য ভক্তিসহকারে এই কবচ পাঠ কর এবং বৈষ্ণবী দেবীর মন্ত্র জপ কর, তাহা হইলে সকল বিষয়ে সিদ্ধি প্রাপ্ত হইবে। ৮৬

ষট্‌পঞ্চাশ অধ্যায় সমাপ্ত। ৫৬

আরও পড়ুনঃ

বরাহের যজ্ঞরূপত্ব কীৰ্ত্তন – কালিকা পুরাণ
বরাহ-শরভসংগ্রাম – কালিকা পুরাণ
বরাহের ক্রীড়া বর্ণন – কালিকা পুরাণ

বিত্থোৎপত্তি ও তার মাহাত্ম্য – শিব মহাপুরাণ – পৃথ্বীরাজ সেন

পুরাণ (ভারতীয় শাস্ত্র)

মন্তব্য করুন