আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় দুর্গা দেবী
Table of Contents
দুর্গা দেবী

দুর্গার পরিচয়
ঈশ্বর মহাশক্তিশালী। ঈশ্বরের এই শক্তি যে দেবীর রূপে প্রকাশ পেয়েছে, তাঁর নাম দুর্গা। দুর্গা শক্তির দেবী। তিনি দুর্গতি নাশ করে আমাদের মঙ্গল করেন। তিনি দুর্গতি নাশ করেন বলে তাঁকে দুর্গা বলা হয়। আবার তিনি দূর্গম নামক এক অসুরকে বিনাশ করেছেন। এজন্যও তাঁর নাম দুর্গা। মার্কণ্ডেয় পুরাণের অন্তর্গত ‘শ্ৰীশ্ৰী চণ্ডী’ নামক গ্রন্থে দুর্গার সৃষ্টি কাহিনী ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।
তাই দুর্গা পূজায় চণ্ডী পাঠ করা হয়। শ্রীশ্রী চণ্ডীতে বলা হয়েছে- একবার দেবতারা মহিষাসুর নামক এক অসুরের কাছে পরাজিত হন । মহিষাসুর দেবরাজ ইন্দ্রের কাছ থেকে স্বর্গরাজ্য দখল করে নেন। দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন। দেবতারা তখন ব্রহ্মা ও শিবের কাছে যান। তারপর ব্রহ্মার পরামর্শে সবাই মিলে বিষ্ণুর কাছে যান। মহিষাসুরের অত্যাচারের কাহিনী শুনে বিষ্ণু ক্রুদ্ধ হন।
দেবতারা উত্তেজিত হন। তাঁদের সকলের শরীর থেকে তেজ বেরুতে থাকে। সকল দেবতার তেজ মিলিত হয়ে এক তেজোপুঞ্জের সৃষ্টি হয়। সেই তেজপুঞ্জ এক নারীর রূপ নেয়। ইনিই দুর্গা। দুর্গার অনেক নাম। মহিষমর্দিনী, শূলিনী, জয়দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, গন্ধেশ্বরী, শাকম্ভরী, বনদুর্গা, কাত্যায়নী ইত্যাদি রূপেও দুর্গা পূজিত হন ।
দুর্গাপূজার সময়
শরৎকালে দুর্গাপূজা হয়। এজনা দুর্গাপূজাকে শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয়। বসন্তকালেও দুর্গাপূজা হয়। একে বলা হয় বাসন্তী পূজা। তবে শারদীয়া দুর্গাপূজা প্রসিদ্ধ। শারদীয়া দুর্গাপূজা আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্গার প্রণামমন্ত্ৰ
সর্বমঙ্গলমঙ্গল্যে শিবে সর্বার্থসাধিকে ।
শরণ্যে ত্র্যম্বকে গৌরি, নারায়ণি নমোহস্তুতে।।

সরলার্থ
হে সকল প্রকার মঙ্গলদায়িনী, মঙ্গলময়ী, সর্বার্থসাধিকা, ত্রিনয়না, গৌরী, নারায়ণী, তোমাকে নমস্কার।
দুর্গার মাহাত্ম্য
দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তি। তাঁকে আদ্যাশক্তি বলা হয়। তিনি মহামায়া। পৃথিবীতে জীব ও জগতের মধ্যে যে মায়া, তা এ মহামায়ারই মায়া। দেবী-পুরাণসহ অনেক পুরাণ ও তন্ত্র শাস্ত্রে দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে। বেদেও দুর্গার উল্লেখ আছে। দুর্গা যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হয়ে থাকেন। তাঁর হাতের অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করেন। ধার্মিককে তিনি রক্ষা করেন এবং অধার্মিককে বিনাশ করেন।
সাধারণত বসন্তকালে বাসন্তী দুর্গার পূজা হত। রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য বসন্তকালে দুর্গাপূজা করেছিলেন। শ্রীরামচন্দ্র অকালে অর্থাৎ বসন্তকাল ছাড়া অন্য একটি কালে— শরৎকালে দুর্গাপূজা করেন। শারদীয়া দুর্গাপূজাই প্রসিদ্ধ হয়। দুর্গাপূজা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় পূজা এবং বড় ধর্মীয় উৎসব। দুর্গাপূজার সময় ‘মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। দেবী দুর্গা আমাদের শক্তি দেন। সাহস দেন।
তিনি আমাদের দূর্গতি বা বিপদ থেকে ত্রাণ করেন। কোথাও যাত্রা করার সময় ‘দুর্গা দুর্গা’ বলে যাত্রা করতে হয়। তাহলে যাত্রা শুভ হয়। দুর্গা মহিষাসুরসহ অনেক অসুর বধ করেছেন। যে-কোন অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবিধানের সময় দেবী দুর্গা আমাদের প্রেরণা।
সারাংশ
ঈশ্বরের শক্তি যে দেবীর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর নাম দুর্গা। দুর্গা আমাদের দুর্গতি নাশ করেন বলে তিনি দুর্গা। আবার দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছেন বলেও তাঁকে দুর্গা বলা হয়। দুর্গার বাহন হচ্ছে সিংহ। মার্কণ্ডেয় পুরাণ, দেবী পুরাণ প্রভৃতিতে দেবীর রূপ ও মাহাত্ম্যের বর্ণনা আছে। দুর্গাপূজা হয় শরৎকালে ও বসন্তকালে। শরৎকালের দুর্গাপূজাকে শারদীয় দুর্গাপূজা বলে ।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজা করা হয়। দুর্গাপূজায় চণ্ডীপাঠ করা হয়। দুর্গাপূজা হিন্দুদের সবচেয়ে বড় পূজা। সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দুর্গা পূজার সময় ‘মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়।
আরও দেখুন :
