আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় স্তব স্তোত্র
Table of Contents
স্তব স্তোত্র

স্তব স্তোত্র
বেদ :
সহস্রশীর্ষা পুরুষঃ সহস্রাক্ষঃ সহস্রপাৎ স ভূমিং বিশ্বতো বৃত্বা অত্যতিষ্ঠদৃশাঙ্গুলম্ ।। (ঋগবেদ ১০/৯০/১)
শব্দার্থ ও টীকা
পুরুষ – এখানে পুরুষ বলতে পরম পুরুষ বা ঈশ্বরকে বোঝানো হয়েছে ।
অত্যতিষ্ঠদশাঙ্গুলম্অ – তি+অতিষ্ঠৎ+দশ+ আঙ্গুলম্ ।
ঋগবেদ ১০/৯০/১- এর অর্থ হচ্ছে ঋগবেদের দশম মণ্ডলের দশম সূক্তের প্রথম শ্লোক ।
বাংলা অর্থ :
পুরুষের (ঈশ্বরের) সহস্র মস্তক, সহস্র চক্ষু ও সহস্র পা। তিনি বিশ্বকে ব্যাপ্ত করে বিশ্ব অপেক্ষা দশ অঙ্গুলি পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে অবস্থান করেন।
উপনিষদ :
নীলঃ পতঙ্গো হরিতো লোহিতাক্ষ- স্তড়িদ্গর্ভ ঋতবঃ সমুদ্রাঃ । অনাদিমত্ত্বং বিভুত্বেন বর্তসে যতো যাতানি ভুবনানি বিশ্বাঃ ।। (শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, 8 / 8 )

শব্দার্থ ও টীকা
লোহিতাক্ষস্তড়িদ্গর্ভ – লোহিত+অক্ষঃ+তড়িৎ+ গর্ভঃ। লোহিত রক্ত বা লাল রঙ।
অক্ষ- চোখ; লোহিতাক্ষঃ – রক্তবর্ণ বা লাল রঙের চোখ যার ।
তড়িদগর্ভঃ – যার ভেতরে তড়িৎ বা বিদ্যুৎ আছে। অনাদিমত্ত্বং অনাদিম + ত্বম্। অনাদিম আদি নেই যার।
ত্বম্ – তুমি । শ্বেতাশ্বতর ৪/৪ শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের ৪র্থ মন্ত্ৰ ।
বাংলা অর্থ :
তুমিই নীল পতঙ্গ (ভ্রমর), তুমিই সবুজ বর্ণ ও রক্তচক্ষু শুক পাখি। তুমিই বিদ্যুৎগর্ভ মেঘ, তুমিই সকল ঋতু ও সকল সমুদ্র। তোমার আদি নেই। সর্বব্যাপীরূপে তুমি বর্তমান। তোমা থেকেই নিখিল ভুবনের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
ত্বমাদিদেবঃ পুরুষঃ পুরাণ- ত্ত্বমস্য বিশ্বস্য পরং নিধানম্ । বেত্তাসি বেদ্যঞ্চ পরঞ্চ ধাম ত্বয়া ততং বিশ্বমনন্তরূপ।। (গীতা, ১১/৩৮)
বাংলা অর্থ :
হে অনন্তরূপ, তুমি আদি দেব, অনাদি পুরুষ এবং বিশ্বের একমাত্র লয়স্থান। তুমি সবকিছু জান, তোমাকেই জানতে হয়, তুমি পরম স্থান এবং জগৎকে তুমিই পরিব্যাপ্ত করে আছ।
শ্ৰীশ্ৰীচণ্ডী :
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ।
বাংলা অর্থ :
যে দেবী সকল জীবে শক্তিরূপে আছেন, তাঁকে নমস্কার, নমস্কার, বারবার নমস্কার।
সারাংশ

ঋগবেদ, শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও শ্রীশ্রীচণ্ডী থেকে সংকলিত এই চারটি মন্ত্র ও শ্লোকে ঈশ্বরের গুণ-কীর্তন করা হয়েছে। শ্লোকগুলো থেকে প্রতিপন্ন হয় যে ঈশ্বর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। আমরা যা কিছু দেখতে পাচ্ছি, সবই তিনি। তাঁর অনন্ত রূপ, অনন্ত গুণ। তিনি শক্তিরূপে সর্বত্র বিরাজিত। তাই আমরা তাঁকে প্রণাম জানাই ।
আরও দেখুন :
